সমুদ্রপাড়ে দেখা সেই মেয়ে
একদিন গিয়েছিলাম সমুদ্রের পাড়ে,
নিজেকে একটু হারিয়ে দিতে—
ঢেউয়ের সঙ্গে কথা বলব বলে,
মনটা একটু শান্ত করতে।
হঠাৎ চোখ আটকে গেল
এক অপরূপ সুন্দরীর দিকে,
সমুদ্রের নীল জলে দাঁড়িয়ে সে—
চুলে লেগে থাকা জল,
মুখে মায়াবী হাসি।
সেদিন আমি সমুদ্রে নামিনি,
নেমেছিলাম অন্য এক নেশায়—
তার চোখের নেশায়,
তার মায়াবী উপস্থিতির নেশায়।
জানি না তার শরীরের সুবাস ছিল,
নাকি আমার মনের ভুল—
কিন্তু সেই মুহূর্তে
চারপাশের সবকিছু থেমে গিয়েছিল,
শুধু সে-ই ছিল আমার চোখের সামনে।
আমি জানতাম না,
একটি অপরিচিত মানুষ
এত দ্রুত কীভাবে
হৃদয়ের এতটা কাছের হয়ে যায়!
সেদিন সমুদ্রের ঢেউ ফিরে গিয়েছিল,
কিন্তু সে ফিরে যায়নি—
সে রয়ে গিয়েছিল
আমার মনের কোনো এক গোপন ঘরে।
তারপর কত দিন পেরিয়ে গেল,
কত ঋতু বদলে গেল,
সমুদ্রের ঢেউ হয়তো
আজও আগের মতোই আসে-যায়।
শুধু সে নেই...
আজও কখনো সমুদ্রের কাছে গেলে
অজান্তেই চোখ তাকে খোঁজে।
মনে হয়—
হয়তো কোনো এক বিকেলে
আবার দেখা হয়ে যাবে তার সঙ্গে।
কিন্তু কিছু মানুষ
জীবনে ফিরে আসার জন্য আসে না,
তারা আসে—
কিছু সুন্দর স্মৃতি দিয়ে
সারাজীবন মনে থাকার জন্য।
সে ছিল আমার জীবনের
একটি ছোট্ট মুহূর্ত,
অথচ সেই মুহূর্তটাই
আজ আমার সবচেয়ে বড় স্মৃতি।
আমি তাকে ভালোবেসেছিলাম,
হয়তো সে জানতও না।
আমি তাকে হারিয়েছি,
অথচ তাকে পাওয়ার গল্পটাও
কখনো শুরু হয়নি।
কী অদ্ভুত এই ভালোবাসা—
কেউ পাশে না থেকেও
কেউ একজন
সারাজীবন হৃদয়ের ভেতর
সবচেয়ে কাছের মানুষ হয়ে থাকে।
আজও সমুদ্রের ঢেউ শুনলে
মনে হয়,
সেই বিকেলের গল্পটা
ঢেউগুলো আমাকে বলে যায়—
“কিছু মানুষকে পাওয়া যায় না,
শুধু ভালোবেসে যেতে হয়।
আর কিছু ভালোবাসা
শেষ হয়ে যায় না কখনো,
শুধু স্মৃতি হয়ে
নীরবে বেঁচে থাকে।”
সেই মেয়েটি আজ কোথায়,
কেমন আছে—জানি না।
শুধু জানি,
সমুদ্রপাড়ে দেখা সেই অপরিচিত মেয়েটি
কখন যে আমার
সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতি হয়ে গেল,
তা আজও বুঝতে পারিনি।
আর আমি?
আমি আজও মাঝে মাঝে
সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকি—
হয়তো ঢেউয়ের ওপারে
কোনো একদিন
হারিয়ে যাওয়া সেই মানুষটাকে
আবার খুঁজে পাব বলে।

কোন মন্তব্য নেই
আপনার মন্তব্য শেয়ার করুন।