অস্কারের ৯৯তম আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’
৯৯তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছে চলচ্চিত্র ‘রইদ’। ‘হাওয়া’খ্যাত জনপ্রিয় নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত এই সিনেমাটি এবার বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সিনেমা শিল্পের গৌরব তুলে ধরবে।
রোববার ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয় অস্কার বাংলাদেশ কমিটি। জানা যায়, এবারের অস্কারে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ থেকে মোট পাঁচটি চলচ্চিত্র জমা পড়েছিল। প্রাথমিক বাছাইয়ের পর জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের কমিটির নিবিড় মূল্যায়ন ও আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে ‘রইদ’-কে বেছে নেওয়া হয়।
কী আছে ‘রইদ’ সিনেমায়?
নির্মাতার প্রথম চলচ্চিত্র ‘হাওয়া’-এর অভাবনীয় সাফল্যের পর ‘রইদ’ নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। ‘রইদ’ মূলত সাধু ও তার স্ত্রী পাগলির সম্পর্কের একটি সরল অথচ গভীর আখ্যান। একটি আদিম প্রেমের গল্পের সঙ্গে নীরবতা এবং মানবজীবনের চিরন্তন অনুভূতির পরাবাস্তব মিশ্রণ ঘটেছে এই সিনেমায়।
ছবিটির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, নাজিফা তুষি, গাজী রাকায়েত ও টুটুল ফকির। বিশেষ করে এই সিনেমার জন্য অভিনেত্রী নাজিফা তুষির ডেডিকেশন দর্শকমহলে দারুণ প্রশংসিত হয়েছে।
চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি টানা ছয় মাস চুলে শ্যাম্পু বা সাবান ব্যবহার করেননি। এমনকি দাঁতের রং ও আকৃতিও পরিবর্তন করেছিলেন। এছাড়া সিনেমার শুটিংয়ের জন্য সিলেটে প্রায় ৫০ হাজার গাছ লাগিয়ে একটি কৃত্রিম সেট নির্মাণ করা হয়েছিল, যা সিনেমাটির ভিজ্যুয়ালকে এক অনন্য রূপ দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘রইদ’-এর পদচারণা
চলতি বছরের ২৮ মে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নজর কাড়ে সিনেমাটি। নেদারল্যান্ডসের ৫৫তম ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যামের মূল প্রতিযোগিতা ‘টাইগার কম্পিটিশন’-এ সিনেমাটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয় এবং এটি দারুণ প্রশংসিত হয়।
নির্মাতার উচ্ছ্বাস
অস্কারে যাওয়ার খবরে আনন্দ প্রকাশ করেছেন নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অনুভূতিটা ভালো, আনন্দের। কারণ, এটা আমাদের গল্প, আমাদের এই অঞ্চলের গল্প। সিনেমা শুধু বাণিজ্যিক দিক থেকে দেখার বিষয় নয়, এর একাডেমিক ও নান্দনিক দিকও আছে। ‘রইদ’-এর মাধ্যমে আমরা সেই অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
তিনি আরও বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের ভালো মানের ছবি অস্কারে প্রতিনিধিত্ব করছে, যা ঢালিউডের জন্য একটি বড় আশার দিক।
বঙ্গের প্রযোজনায় এবং ফেসকার্ড প্রডাকশনের সহ-প্রযোজনায় নির্মিত ‘রইদ’ এখন অস্কারের চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকার অপেক্ষায় রয়েছে। ‘রইদ’-এর এই আন্তর্জাতিক যাত্রা বাংলাদেশের সিনেমা শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।

কোন মন্তব্য নেই
আপনার মন্তব্য শেয়ার করুন।