টাঙ্গাইলে ব্রিজের রডের বদলে বাঁশ: উন্নয়নের নামে আর কত দুর্নীতি ও জনজীবনের ঝুঁকি?
উন্নয়নের ঢাকঢোল পিটিয়ে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে বড় বড় প্রকল্প। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি কেমন? টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার মাইজখাড়া মরাগাঙ্গী এলাকায় এলজিইডির (LGED) প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ টাকার নির্মাণাধীন ব্রিজে যা ঘটেছে, তা শুধু অনিয়ম নয়—সরাসরি মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এক ভয়াবহ নামান্তর!
ভিডিও চিত্রে স্পষ্ট দেখা গেছে, রাতের আঁধারে প্রকাণ্ড ব্রিজের ফুটপাত ও পাটাতন অংশে রডের বদলে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশের কঞ্চি! মানুষের ঘাম ঝরানো করের টাকায় তৈরি একটি পাকা সেতুতে যেখানে কয়েক হাজার টন ওজনের যাতায়াত নিশ্চিত করার কথা, সেখানে দেয়া হয়েছে বাঁশ। স্থানীয়দের চোখ কান খোলা ছিল বলেই রাতের আঁধারের এই পুকুরচুরি ধরা পড়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সরজমিনে পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে এবং এলজিইডি কর্তৃপক্ষও অনিয়মের কথা স্বীকার করেছে। কিন্তু শুধু 'ভেঙে আবার করা হবে' কিংবা 'তদন্ত কমিটি'র আশ্বাস দিয়েই কি এই দায় এড়ানো সম্ভব?
১. রাতের অন্ধকারে কেন এই ঢালাই দেওয়া হচ্ছিল? ২. ঠিকাদার ও তদারককারী প্রকৌশলীদের অনৈতিক যোগসাজশ ছাড়া এমন দুঃসাহস কীভাবে সম্ভব? ৩. স্থানীয় জনগণ সতর্ক না হলে এই বাঁশ দিয়ে ঢাকা দুর্বল ব্রিজটি ধসে গিয়ে যে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারত, তার দায় কে নিত?
প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো আর বাজেট বাড়িয়ে পকেট ভরার এই নোংরা সংস্কৃতি বন্ধ করতেই হবে। দায়সারা তদন্ত না করে, এই অপরাধমূলক কাজের সাথে যুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিরতরে কালো তালিকাভুক্ত (Blacklist) করতে হবে এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সরকারি অর্থের হরিলুট বন্ধে আমাদের সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। অনিয়ম দেখলে চুপ না থেকে প্রতিবাদ গড়ে তুলুন!
#StopCorruption #TangailBridge #CorruptionExposed #LGED #JusticeForPeople #PublicSafety

কোন মন্তব্য নেই
আপনার মন্তব্য শেয়ার করুন।