গ্যাসের সংকটে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন সিএনজি চালক, অনিশ্চয়তায় সংসার
সিএনজি অটোরিকশার চালকের জীবন এমনিতেই কঠিন। প্রতিদিন রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিশ্রম করে যে আয় হয়, তা দিয়েই চলে পরিবারের খাবার, সন্তানদের পড়াশোনা, বাসাভাড়া ও নিত্যদিনের প্রয়োজন। কিন্তু জ্বালানি সংকট ও নানা অনিশ্চয়তায় সেই সামান্য আয়ের পথও যখন বাধাগ্রস্ত হয়, তখন অসহায় হয়ে পড়েন এসব শ্রমজীবী মানুষ।
একজন সিএনজি চালককে গাড়ির ভেতরে বসে কান্না করতে দেখা গেছে। তার চোখে-মুখে ছিল দীর্ঘদিনের কষ্ট আর হতাশার ছাপ। নিয়মিত গ্যাস না পাওয়ায় ঠিকমতো সিএনজি চালাতে পারছেন না তিনি। দিনের একটি বড় সময় যদি গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতেই চলে যায়, তাহলে আয় করার সুযোগও কমে যায়।
কথা বলতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই চালক তার অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, গাড়ি চালিয়ে যে টাকা আয় করেন, তা দিয়েই সংসার চলে। সন্তানদের খাবার, পড়াশোনা, পরিবারের প্রয়োজন—সবকিছুর দায়িত্ব তার কাঁধে। কিন্তু গাড়ি নিয়মিত চালাতে না পারলে আয় কমে যায়, আর তখন সংসারের খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে।
তার মতো আরও অনেক সিএনজি চালক প্রতিদিন একই অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে কাজ করছেন। কেউ দীর্ঘ সময় গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করছেন, আবার কেউ পর্যাপ্ত গ্যাস না পেয়ে দিনের আয় হারাচ্ছেন। অথচ দিনের শেষে পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা করেন তার উপার্জনের ওপর।
একজন শ্রমজীবী মানুষের কাছে গাড়ি শুধু একটি যানবাহন নয়—এটাই তার পরিবারের বেঁচে থাকার অবলম্বন। সেই গাড়ি যদি জ্বালানির অভাবে রাস্তায় নামতে না পারে, তাহলে তার প্রভাব সরাসরি পড়ে পুরো পরিবারের ওপর।
সিএনজি চালকদের অনেকেই চান, জ্বালানি সরবরাহের সমস্যার একটি কার্যকর সমাধান হোক এবং তারা যেন নিয়মিত কাজ করার সুযোগ পান। কারণ তারা কারও কাছে দান চান না; তারা চান পরিশ্রম করে নিজের পরিবারকে চালানোর সুযোগ।
একজন চালকের চোখের পানি তাই শুধু ব্যক্তিগত কষ্টের গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি পরিবারের খাবার, সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং একজন শ্রমজীবী মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম।
গ্যাসের সংকট যেন তাদের জীবিকার সংকটে পরিণত না হয়—এটাই এখন সিএনজি চালকদের অন্যতম দাবি।

কোন মন্তব্য নেই
আপনার মন্তব্য শেয়ার করুন।